শীর্ষক সেমিনারঃ

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের (এএসবিএমইবি) যৌথভাবে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিএনসিআরপির সম্মেলন কক্ষে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের (এএসবিএমইবি) যৌথভাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিএনসিআরপির সম্মেলন কক্ষো ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী, বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন, এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপপরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক প্রমুখ।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বাজারে প্রবেশে দেশের কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে। তবে সে সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দেশি শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিএনসিআরপির সম্মেলন কক্ষে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, কসমেটিকস কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়-এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের কারণে ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার চিত্র তুলে ধরেন। তার মতে, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুযোগে নিম্নমানের পণ্য বাজার দখল করে নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন বলেন, কসমেটিকসশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত ১২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ শুল্ক দেশি শিল্পের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। সে জন্য তিনি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে নামমাত্র পর্যায়ে আনার দাবি জানান।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক ভেজাল কসমেটিকস ব্যবহারের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যপ্রভাব তুলে ধরে বলেন, এসব পণ্যের কারণে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি, অ্যালার্জি, মানসিক বিপর্যয় এমনকি চরম হতাশা দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ মানসিক চাপে আত্মহননের পথ ও বেছে নিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অশনিসংকেত। তিনি ভোক্তা সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
আইবিএফবি’র সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন ভোক্তাই ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান লাগেজ পার্টির মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য আমদানি বন্ধের দাবি জানান, যা জনস্বাস্থ্য ও দেশীয় শিল্প উভয়ের জন্যই হুমকি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএনসিআরপি’র পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন এবং সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন। বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
